Top News

খাবার থেকে শরীরে মিশে যাচ্ছে প্লাস্টিকের সূক্ষ্ম কণা, ঝুঁকি কমাতে কী করবেন?

 


আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি বাঁকে মিশে আছে প্লাস্টিক। রান্নার পাত্র, পানির বোতল, চা-কফির কাপ, পণ্যের মোড়ক—সর্বত্রই এর উপস্থিতি। উদ্বেগের বিষয় হলো, এই উৎসগুলো থেকে প্রতিনিয়ত প্লাস্টিকের অতি ক্ষুদ্র কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক আমাদের খাবারের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে, যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য নীরব হুমকি সৃষ্টি করছে।ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় ও সিয়াটল চিলড্রেনস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ এবং পরিবেশগত ও পেশাগত স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক শীলা সত্যনারায়ণ মনে করেন, প্লাস্টিকমুক্ত থাকা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। তাঁর মতে, ধীরে ধীরে দৈনন্দিন জীবনযাপনে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে আনা সম্ভব।


১. খাবারের মোড়ক ও পাত্রে মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিস্ফোরণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লাস্টিকে সংরক্ষিত খাবারে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি অনিবার্য। গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের প্যাকেটগুলো খোলার সময় এক রকম মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিস্ফোরণ ঘবিস্ফোরণের মাত্রা: কাঁচি, হাত, ছুরি কিংবা ঢাকনা ঘুরিয়ে যেভাবেই প্লাস্টিকের প্যাকেট খোলা হোক না কেন, প্রতি সেন্টিমিটারে প্রায় আড়াই শ মাইক্রোপ্লাস্টিক তৈরি হয়।পুরোনো পাত্রের ঝুঁকি: প্লাস্টিকের পাত্র, এমনকি মেলামাইন ও সিলিকন যত পুরোনো হয়, তা থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়ানোর পরিমাণ তত বাড়তে থাকে।


স্বল্প সময়ের দূষণ: খাবার অল্প সময়ের জন্য প্লাস্টিকের পাত্রে রাখলেও দূষণের আশঙ্কা তৈরি হয়।


২. খাদ্যচক্রে সর্বব্যাপী প্লাস্টিক: ১৯৯০ সালের চেয়ে ৬ গুণ বেশি প্রবেশ

প্লাস্টিকের দূষণ এখন শুধু সমুদ্র বা বাতাসে সীমাবদ্ধ নেই; তা ঢুকে পড়েছে আমাদের মূল খাদ্যচক্রে। ফল, শাকসবজি, মধু, রুটি, দুগ্ধজাত দ্রব্য, মাছ ও মাংস থেকে শুরু করে দৈনন্দিন ব্যবহৃত লবণে পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এমনকি ডিমের সাদা অংশ ভেদ করে সূক্ষ্ম কণা কুসুমেও পৌঁছে গেছে। সমুদ্র ও খনি দূষণ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় লবণের সঙ্গেও এই ক্ষতিকর কণা মিশে যাচ্ছে।


একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯০ সালের চেয়ে ২০১৮ সালে মানুষের শরীরে ৬ গুণ বেশি প্লাস্টিক প্রবেশ করেছে।


কৃষি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ: শিল্প এলাকায় চাষাবাদ করা ফসলে দূষিত পরিবেশের কারণে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করছে। ফসল প্রক্রিয়াজাতকরণের সময়ও এসব ক্ষতিকর পদার্থ মিশে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।


প্রাণী থেকে মানবদেহে: পরিবেশদূষণের প্রভাবে ও খাদ্যের মাধ্যমে প্লাস্টিক প্রথমে উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহে ঢুকছে। আমরা যখন এসব উদ্ভিদ ও প্রাণী খাবার হিসেবে গ্রহণ করছি, তখন এই প্লাস্টিকের কণাগুলো আমাদের শরীরেও প্রবেশ করছে।


৩. ঝুঁকি কমানোর উপায়: খাদ্যাভ্যাস ও রান্নাঘরের পরিবর্তন

বিশেষজ্ঞরা এই নীরব দূষণ থেকে মুক্তি পেতে রান্নাঘরে এবং দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিয়েছেন:


১. ভালো করে ধোয়া: গবেষকরা দেখেছেন, চাল ধুয়ে রান্নার কারণে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ ২০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে যায়। একইভাবে মাছ-মাংস ভালোভাবে ধুয়ে নিলেও সূক্ষ্ম প্লাস্টিকের কণার পরিমাণ অনেকটাই কমানো সম্ভব।


২. তাজা খাবার গ্রহণ: প্লাস্টিকের মোড়কজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার বাদ দিয়ে যতটা সম্ভব তাজা খাবার খাওয়ার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।


৩. প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো: রান্নাঘরে এবং দৈনন্দিন ব্যবহারে প্লাস্টিকের পাত্রের বদলে কাঁচ বা ধাতব পাত্রের ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


গবেষকদের মতে, বিশ্বব্যাপী পরিবেশে প্লাস্টিকের দূষণ যদি ৯০ শতাংশ কমিয়ে আনা যায়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে মানুষের প্লাস্টিক গ্রহণের মাত্রা অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব। ব্যক্তিগত ও বৈশ্বিক—উভয় পর্যায়েই সচেতনতা ও পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।টে।

🎁 Your Special Offer is Loading...

Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.

10s

⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Post a Comment

Previous Post Next Post