ইহুদিরা নিজেদের হযরত মূসা (আ.)-এর অনুসারী দাবি করে এবং বিশ্বাস করে, আখেরাতে জান্নাত শুধু তাদের জন্যই নির্ধারিত। তারা বলে, তাদের ধর্মগ্রন্থই সেই তাওরাত যা সিনাই পর্বতে আল্লাহ তাআলা মূসা (আ.)-এর ওপর নাজিল করেছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো—আজ তারা আসলে কোন কিতাবের অনুসরণ করছে? প্রকৃত তাওরাত, নাকি পরবর্তীতে রচিত তালমুদ?ইসলামি দৃষ্টিকোণ ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ বলছে, ইহুদিরা সেই আসমানি তাওরাত থেকে অনেক আগেই বিচ্যুত হয়েছে। কুরআনের ভাষায়, তারা আল্লাহর বাণী শুনে জেনে-বুঝে বিকৃত করেছে। সূরা বাকারা ও সূরা মায়িদার আয়াতগুলোয় আল্লাহ তাআলা তাদের এই বিকৃতির কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এমনকি সহীহ বুখারীর একটি হাদীসে পাওয়া যায়, এক ইহুদি দম্পতির ব্যভিচারের ঘটনায় তারা নিজেদের তাওরাতে থাকা রাজমের নির্দেশ লুকাতে চেয়েছিল।
আসমানি কিতাব তাওরাত ছিল বনী ইসরাঈলকে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য নাজিলকৃত এক পথনির্দেশ। মূলত এটি ছিল হিব্রু ভাষায় রচিত, যার অর্থ "দিকনির্দেশনা" বা "আইন"। বর্তমান ইহুদিরা যাকে “তোরা” বলে মানে, সেটি আসল তাওরাত নয়—বরং বহু শতাব্দী পর সংকলিত পঞ্চপুস্তকের একটি রূপ। এই পাঁচটি গ্রন্থ হলো—বেরেশীত (আদি পুস্তক), সেমত (যাত্রা), ভাইকরা (লেবীয়ক), বামিদবার (গণনা), এবং দেভারিম (দ্বিতীয় বিবরণ)। ইতিহাসবিদদের মতে, এই বইগুলো মূসা (আ.)-এর মৃত্যুর প্রায় ১,১০০ বছর পর রচিত হয়, অর্থাৎ ঈসা (আ.)-এর আগমনের প্রায় ৪৪৪ বছর আগেএখনকার ইহুদিরা শুধু এই বিকৃত তাওরাত নয়, বরং “তালমুদ” নামে আরেকটি গ্রন্থকেও তাদের ধর্মীয় বিধানের ভিত্তি হিসেবে মানে। তালমুদ আসলে বিভিন্ন ইহুদি পণ্ডিতের মতামত, ব্যাখ্যা, ও বিচারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের সংকলন, যার দুটি সংস্করণ আছে—*বাবলি তালমুদ (ব্যাবিলন)* এবং *ইরুশালমি তালমুদ (জেরুজালেম)*। যদিও ইহুদিরা বলে এটি তাওরাতের ব্যাখ্যা, বাস্তবে এতে রয়েছে বহু কল্পকাহিনী ও ধর্মবিরোধী ধারণা। উদাহরণস্বরূপ, সেখানে এমন দাবিও করা হয়েছে যে, “হযরত ইয়াকুব (আ.) একবার আল্লাহর সঙ্গে মল্লযুদ্ধে অংশ নিয়ে জয়লাভ করেন”—নাউযুবিল্লাহ!
আজকের ইহুদি সমাজ মুখে বলে তারা মূসা (আ.)-এর অনুসারী, কিন্তু বাস্তবে তারা তার শিক্ষা ও আদর্শ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্যুত। তারা তাওরাত বিকৃত করেছে, নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে অস্বীকার করেছে, আর নিজেদের বানানো তালমুদকেই এখন “পবিত্র কিতাব” হিসেবে মানছেতাদের এই আত্মপ্রবঞ্চনা ও বিকৃত বিশ্বাস প্রমাণ করে, প্রকৃত তাওরাত আজ আর তাদের কাছে নেই। যে কিতাব আজও বিকৃতি থেকে অক্ষত, সেটি একমাত্র আল-কুরআন—আর সত্য নবীর অনুসরণ কেবল নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর পথেই সম্ভব। যাদের অন্তরে আল্লাহভীতি নেই, তারা কখনোই হেদায়াতের পথে ফিরে আসবে না—এটাই চূড়ান্ত বাস্তবতা।।।
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Post a Comment