আজকের ব্যস্ত জীবনে অনেকেই সময় বাঁচাতে দাঁড়িয়ে বা হাঁটতে হাঁটতে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছেন। অফিসে যাওয়ার পথে দ্রুত নাশতা, সামাজিক অনুষ্ঠানের মাঝখানে দাঁড়িয়ে খাবার খাওয়া কিংবা পথে হালকা কিছু তুলে নেওয়া—এসব এখন অনেকেরই দৈনন্দিন অভ্যাস। অনেকেই মনে করেন, দাঁড়িয়ে খেলে হয়তো হজম দ্রুত হয় বা বসে খাওয়ার অলসতা কাটে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত দাঁড়িয়ে খাওয়া শরীর ও হজমের জন্য মোটেও ভালো নয়। বরং এটি শরীরের রক্তপ্রবাহ, পুষ্টি শোষণ এবং হজম প্রক্রিয়ায় নানা সমস্যার জন্ম দিতে পারে।রক্তপ্রবাহ ও হজমে প্রভাব ফেলে দাঁড়িয়ে খাওয়া
দাঁড়িয়ে খাওয়ার সময় শরীরের ভার নিচের দিকে চলে যায়, ফলে রক্ত পায়ের দিকে জমা হয়। এর ফলে পেট ও হজমযন্ত্রে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হয়, যা খাবার ভাঙার প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। এই পরিস্থিতি থেকে গ্যাস, পেট ফাঁপা, বদহজম বা পেটে ভারী লাগার মতো সমস্যা দেখা দিতে পাকানাডিয়ান সায়েন্স পাবলিশিং জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, বসে বা শুয়ে খেলে খাবার পাকস্থলীতে ধীরে অগ্রসর হয়, আর সোজা হয়ে বসে খাওয়া প্রোটিন হজম ও রক্তে অ্যামিনো অ্যাসিডের শোষণকে উন্নত করে। অর্থাৎ, শরীরের ভঙ্গি ও অবস্থান সরাসরি প্রভাব ফেলে খাবার হজমের গতিতে।দাঁড়িয়ে খাওয়ার আরেকটি সমস্যা হলো দ্রুত খাওয়ার প্রবণতা। দ্রুত খাওয়ার ফলে আমরা অনেক সময় খাবার ভালোভাবে না চিবিয়ে গিলে ফেলি, এতে অতিরিক্ত বাতাস ঢোকে এবং পেট ফাঁপার সম্ভাবনা বাড়ে। দ্রুত খাওয়ার কারণে পাকস্থলীর খাবার ভাঙতে বেশি সময় লাগে, যা হজমে সমস্যা ও অস্বস্তি তৈরি করে। তাই ধীরে, মনোযোগ দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস হজম ও পুষ্টি শোষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দাঁড়িয়ে খেলে কি ওজন কমে?
ইউরোপিয়ান জার্নাল অব প্রিভেন্টিভ কার্ডিওলজি-তে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় শরীর সামান্য বেশি ক্যালরি খরচ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, টানা ছয় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকলে বসে থাকার তুলনায় প্রায় ৫৪ ক্যালরি বেশি খরচ হয়। তবে দাঁড়িয়ে খাওয়ার ফলে খাবার দ্রুত হজম হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ক্ষুধা লাগে। পাকস্থলী কতটা প্রসারিত হচ্ছে এবং কতক্ষণ খাবারে পূর্ণ থাকছে, তার ওপরই মস্তিষ্কে পূর্ণতার সংকেত পৌঁছে। দ্রুত হজম হওয়া খাবার—বিশেষ করে প্রসেসড কার্বোহাইড্রেট—দ্রুত ক্ষুধা ফিরিয়ে আনে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
অ্যাসিড রিফ্লাক্সে উপকার পেতে পারেন কিছু মানুষ
যাদের অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা জিইআরডি (GERD) সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে বা সোজা হয়ে খাওয়ার কিছু উপকার থাকতে পারে। সোজা ভঙ্গিতে থাকার ফলে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি খাবার হজমে সাহায্য করে এবং পাকস্থলীর চাপ কমায়, যা রিফ্লাক্সের ঝুঁকি হ্রাস করে। তবে খাবারের পর শুতে হলে ডান পাশের বদলে বাম পাশে শোওয়া আরামদায়ক বলে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন।
পেট ফাঁপার ঝুঁকিও থাকে দাঁড়িয়ে খাওয়ার ফলে
দাঁড়িয়ে খেলে খাবার দ্রুত হজম হলেও এটি সবসময় উপকারী নয়, বিশেষ করে কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবারের ক্ষেত্রে। অসম্পূর্ণ হজমের ফলে অন্ত্রে গ্যাস তৈরি হয়, যা পেট ফাঁপা বা অস্বস্তির কারণ হতে পারে। ল্যাকটোজ অসহনশীলতা বা ফডম্যাপ সংবেদনশীলতা থাকা ব্যক্তিদের জন্য এই সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। সচেতনভাবে ধীরে খাওয়া ও খাবারের ধরন সম্পর্কে সতর্ক থাকা এসব সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
খাবার খাওয়ার সঠিক ভঙ্গি কী হওয়া উচিত
সাধারণভাবে সোজা হয়ে বসে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। এটি খাবারকে সহজে পাকস্থলী থেকে অন্ত্রে পৌঁছাতে সাহায্য করে এবং গলায় খাবার আটকে যাওয়ার ঝুঁকি কমায়। ধীরে ধীরে ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া ও সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখলে হজম শক্তি বাড়ে এবং শরীর পুষ্টিগুণ ভালোভাবে শোষণ করতে পারে।
দাঁড়িয়ে খাওয়া সামান্য ক্যালরি খরচে সহায়ক হলেও এটি হজমের জন্য আদর্শ নয়। বরং এটি অতিরিক্ত ক্ষুধা, গ্যাস, বদহজম বা অস্বস্তির কারণ হতে পারে, বিশেষ করে যাদের রিফ্লাক্স বা খাদ্যসংবেদনশীলতার সমস্যা আছে। সুস্থ হজমের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো সঠিক ভঙ্গিতে ধীরে ধীরে খাবার খাওয়া এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা। সচেতন খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে ভালো হজম ও সুস্থ জীবনের মূল চাবিকাঠিরে
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Post a Comment