Top News

যে আমলে জান্নাত বান্দাকে ডাকতে থাকে

 


মানবজীবনের প্রকৃত সাফল্য কোনো পদ, সম্পদ বা খ্যাতিতে নয়,বরং আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনে। যে মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে পারে, তার জন্য জান্নাতই চূড়ান্ত পুরস্কার, আর জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তিই তার পরম অর্জন।কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো,আমাদের পরম করুণাময় প্রভু আল্লাহ তাআলা এমন কিছু সহজ ও ক্ষুদ্র আমল নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যা তার দরবারে অতি মহান মর্যাদা রাখে। সেগুলোর মাধ্যমে মানুষ জান্নাতের দোয়া ও জাহান্নামের মুক্তির ঘোষণা লাভ করতে পারে।রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের এমনই এক অনন্য দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন, যা অতি সংক্ষিপ্ত হলেও অসীম বরকতপূর্ণ। এই দোয়ার বরকতে জান্নাত নিজেই আহ্বান জানায়, হে আল্লাহ! তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। আর জাহান্নাম নিজেই প্রার্থনা করে, হে আল্লাহ! তাকে আমার শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।

এই দোয়া এমন এক আমল, যা প্রতিদিনের সকাল-সন্ধ্যায় মুমিনের হৃদয়ে জান্নাতের আশা ও জাহান্নামের ভয় জাগিয়ে রাখে, আর আল্লাহর রহমতের দিকে তার অন্তরকে উন্মুক্ত করে দেয়হাদিসের আমল

 

হজরত আনাস ইবনু মালিক রা. হতে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

 

مَنْ سَأَلَ اللَّهَ الْجَنَّةَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، قَالَتِ الْجَنَّةُ: اللَّهُمَّ أَدْخِلْهُ الْجَنَّةَ، وَمَنِ اسْتَجَارَ مِنَ النَّارِ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، قَالَتِ النَّارُ: اللَّهُمَّ أَجِرْهُ مِنَ النَّارِ যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে তিনবার জান্নাত প্রার্থনা করে, জান্নাত বলে; হে আল্লাহ! তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও। আর যে ব্যক্তি তিনবার জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চায়, জাহান্নাম বলে; হে আল্লাহ! তাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর। (সুনানুত তিরমিজি:২৫৭২, সহিহুল জামে: ৬আমলটি কিভাবে করবেন

 

রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শেখানো এ দোয়া দুটি খুবই সংক্ষিপ্ত, কিন্তু এর ফল অসীম। সকাল ও সন্ধ্যায় অন্তত তিনবার করে নিম্নোক্ত দোয়া পড়া অত্যন্ত বরকতময়।

 

জান্নাত চাওয়ার দোয়া


اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ (আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল জান্নাহ) হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট জান্নাত প্রার্থনা করছি। জাহান্নাম থেকে রক্ষা চাওয়ার দোয়া,

اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ (আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনাননার) হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করুন।

 

যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় এই দুটি দোয়া তিনবার করে পড়ে, সে এমন এক অঙ্গীকারে যুক্ত হয় যা জান্নাতকে তার জন্য সুপারিশ করতে বাধ্য করে এবং জাহান্নামকে দূরে সরিয়ে রাখে।

 

এই আমলের বিশেষ তাৎপর্য

 

আমটি অত্যন্ত সহজ কিন্তু অতি ফলপ্রসূ আমল, ১. জিহ্বায় উচ্চারণ করা সহজ, কিন্তু ফলাফল জান্নাতের প্রতিশ্রুতি। ২. জান্নাত ও জাহান্নামের সাক্ষ্য, এই হাদিস প্রমাণ করে, জান্নাত ও জাহান্নাম আল্লাহর আদেশে জীবন্ত সত্তার মতো কথা বলে। ৩. এই আমল নবীর শেখানো আত্মশুদ্ধির পন্থা, ৪. এই আমল প্রতিদিনের দোয়ার মাধ্যমে মানুষের অন্তরে জান্নাতের আকাঙ্ক্ষা ও জাহান্নামের ভয় জাগিয়ে রাখে। ৫. আল্লাহর প্রতি নিবেদিত মনোভাব তৈরি করে, ৬. প্রতিদিন এই দোয়া পড়লে মানুষ নিজেই পাপ থেকে দূরে থাকে, কারণ সে জানে,তার জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাওয়া এই দোয়ার গুরুত্ব

 

আল্লাহ তাআলা বলেন,

 

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ হে আমাদের প্রভু! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন, আখিরাতে কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। এই আয়াত ও হাদিসের মাঝে গভীর সম্পর্ক আছে,উভয়ই আল্লাহর কাছে কল্যাণ (জান্নাত) ও নিরাপত্তা (জাহান্নাম থেকে রক্ষা) চাওয়ার শিক্ষা দেয়। (সুরা বাকারা:২০১)

 


মানুষের জীবন ছোট, কিন্তু আল্লাহর রহমত অসীম

 

যে বান্দা প্রতিদিন কেবল কয়েকটি বাক্য উচ্চারণ করে আল্লাহর কাছে জান্নাত ও নিরাপত্তা চায়, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেন, জাহান্নাম থেকে তাকে দূরে সরিয়ে দেন। আমরা সকলে এই ছোট কিন্তু মহান দোয়াটিকে আমাদের প্রতিদিনের সকাল-সন্ধ্যার আমলে পরিণত করি। হয়তো এই দোয়াই আমাদের জান্নাতের পথে এক মহান সুসংবাদ হয়ে উঠবে, যার ফল হবে অনন্ত শান্তি ও চিরস্থায়ী সফলতা।বৃথা যাবে না।১৫১)।

🎁 Your Special Offer is Loading...

Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.

10s

⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Post a Comment

Previous Post Next Post